গত মঙ্গলবার কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে বিওয়াইডি বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’ শেনঝেনে কোম্পানির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রায় এক হাজার শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। খবর রয়টার্স।
হংকংয়ের শেয়ারবাজারে গত এক বছরে বিওয়াইডির শেয়ারদর সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। অন্যদিকে শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে ৩৩ শতাংশ। স্থানীয় বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে গত এক বছরে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিক্রি বেশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দুঃসময় কাটিয়ে ফের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪৬ লাখ গাড়ি বিক্রি করে বিশ্বব্যাপী ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল বিওয়াইডি। চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফুর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কোম্পানিটিকে জাপানের টয়োটা মোটরসকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। গত বছর বিওয়াইডির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে টয়োটা।
তবে চীন প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে টয়োটার বাজার কিছুটা সংকুচিত হচ্ছে। এ সুযোগে সেখানে অন্য চীনা গাড়ি নির্মাতারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
বিওয়াইডির তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। মূলত কম বাণিজ্য বাধা বা শুল্ক সুবিধার কারণে ব্রাজিল, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া বিওয়াইডির গাড়ির প্রধান বাজারে পরিণত হয়েছে। তবে রফতানি বাড়লেও তা স্থানীয় বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে না। একই সময় চীনের বাজারে কোম্পানির গাড়ি বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত উন্নতির ওপর ভরসা রাখছেন ওয়াং চুয়ানফু। তিনি জানান, কোম্পানির তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের ‘ব্লেড ব্যাটারি’ উৎপাদন বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ ব্যাটারির স্বল্পতা বর্তমানে কোম্পানির প্রবৃদ্ধির বড় বাধা। তবে ব্যাটারি ও দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তির উন্নতির মাধ্যমে স্থানীয় ও বিদেশের বাজারে প্রবৃদ্ধি ফিরে আসবে বলে তিনি আশা করেন।